Showing posts with label story. Show all posts
Showing posts with label story. Show all posts

Monday, April 25, 2022

পিঙ্গলের খড়কুটো

================

- সাগর আল হেলাল

-    হাবলুর বাচ্চা কয় কি ! নিচের ঠোঁটে চুমা দিবো। উপরের ঠোঁটের চুমায় মন ভরে না। রানের নিচে চাইপা যদি তোর জান কবচ না করিচি, তো আমার নামও চুমকী না। ঐ ভাওরা, রাখ। টেলিফোন রাখিস না ক্যা ? মনে করচস, আমি লাইন কাটুম, কক্ষণো না। দেখপার চাই তুই কতো সইতে পারিস ?

মোবাইলের লাইন না কেটে টেবিলের উপর সেটা রেখে হাঁফ ছাড়ে চুমকী। আজ মাথা খুব গরম হয়ে গেছে। গতকাল বিকেলে দেখা করার কথা ছিলো সুজনের। কাজের অজুহাত দিয়ে আসেনি সে। সেই ঝাল তুলছে চুমকী। ওপাশে সুজন চোখ-কান বন্ধ করে মোবাইলটা কান থেকে একটু দূরে সরিয়ে শুনছে চুমকীর খিস্তি খেওর। লাইন কেটে দিলে আরও ক্ষেপে যাবে। ফোনটা সে-ই করেছে। অগত্যা নিরবে হজম করছে সব। একটু জিরিয়ে আবারও মোবাইল তুলে নেয় চুমকী। 

-        কি, সাহস হইলো না লাইন কাইট্যা দেওয়ার ? বিএ পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট কইরা দেমাগ বাড়ছে ? কয়জনের সাথে ফষ্টি-নষ্টি তোর ? এই, কথা কস্ না ক্যা ? বোবা হইচছ ? মুখে তালা মারছে কে ?

ওপাশ থেকে কোনো আওয়াজ আসবে না, এ কথা চুমকী জানে। তবুও একটু সাপলুডু খেলছে আর কি। মনের জ্বালা, কঠিন জ্বালা। আবার কথা শুরু করে সে- 

-        শোন, মায় ডাকছে। হের লাইগা রাখছি। মা-ডা যে কি ! জরুরী কামে খালি ডিসটার্ব করে। মার কথা শুইনা, তারপর ফোন দিতাছি। ফোন বন্ধ রাখবি না কিন্তু। তাইলে খবর আছে।

নিজেই ফোনের লাইনটা কেটে দিলো চুমকী। রাগটা সামান্য কমেছে। তার মা তাকে ডাকে নি। সে স্কুলে গেছে ছোটো ভাইকে আনতে। সে বাড়িতে থাকলে এতো জোরে এসব কথা সে বলতে পারতো না। খাটে পা ঝুলিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে। বুকের উপর বনবন করে সর্বোচ্চ গতিতে ঘুরছে ফ্যান। তবুও কপালের ঘাম শুকাতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে মনে হয়। চুমকী চোখ বন্ধ করে।

চোখ খুলেই দরজায় চুমকীকে দেখে লাফিয়ে ওঠে সুজন। এক হাতে চোখ রগড়ায়, আরেক হাতে মোবাইল হাতড়ায়। দেখতে চায় মোবাইলে চুমকীর মিসকল আছে কি না। মোবাইলে চোখ রাখতেই চুমকী বলে ওঠে- 

-        কারো ফোন করার কথা ছিলো নাকি ? 

-        না, দেখছিলাম, তুই ফোন করেছিস নাকি। 

-       না, দেখছিলাম, তুই ফোন করেছিস নাকি! মুখ ভেঙচিয়ে বলে চুমকী। তারপর, আবার বলে- আমার ফোন করতে বয়ে গেছে। কার ফোনের অপেক্ষায় ছিলি তুই ?

সুজন বুঝতে পারে, রাগটা কমে গেলেও তাপটা এখনো আছে। এ সময় আমতা আমতা করলে কাজ হবে না। মা বাড়িতে আছে। চুমকী বেশি সুবিধে করতে পারবে না। থিওরি, পাল্টাতে হবে। তাই সে বলে-

-    এই, তোরে আমি চুমা দিয়েছি কবে ?

-        আমি কি মানা করেছি নাকি ?

চুমকীর গালদুটো লাল হতে দেখে সুজন। সে বোকা হয়ে গেছে। মা বাড়িতে। কি করা যায় ! চুমকী আবার বলো-

-    উঁহ্, চুম্মা খাইবো ! দেবো এক বাড়ি। এটা ধর, মা দিয়েছে। দেশী গুড় দিয়ে বানিয়েছে। নিজের মেয়ের কোনো সাধ আহ্লাদ পূরণে খবর নাই, বইনের ছেলের জন্য নাড়ু বানায়। ধর। ধমকের সুরে বলে চুমকী।

চুমকীর হাত থেকে বক্সটা নিতে নিতে সুজন বলে-

-    এইসব খিস্তি খেওর কার কাছ থেকে শিখেছিস ? 

-        ওস্তাদ ধরছি। তাতে তোর কি ! আমি খালার কাছে যাচ্ছি।

নাড়ুর বক্স হাতে নিয়ে সুজন চুমকীর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। ভাবে, চুমকী কি চায় সে তাকে চুমা দিক ? সুজনের মাথায় কুলায় না। প্রিয় গুড়ের নাড়ুর দিকে মন দেয়। মায়ের কান্নার আওয়াজ কানে আসে। চুমকীকে দেখলেই মা কান্নায় ভেঙে পড়ে। ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার মিছিলের সামনে পড়েছিলো ছোটো খালু। অফিস থেকে ফিরছিলেন তিনি। এমন মিছিল হবে সেকথাও জানতেন না। চাকরীতে অল্প কিছুদিন আগেই ভালো একটা প্রোমোশন পেয়েছিলেন। অনেক বেতন পেতেন। ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারে নি। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিলো। রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই দিনে এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায় রচিত হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে তরতাজা মানুষকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে নারকীয় উল্লাস চালানো হয়েছিল।

ছোটো বোন অল্প বয়সে বিধবা হওয়ায় মা খুব কষ্ট পেয়েছে। বোনের সামনে কাঁদলে, সেও কাঁদে। দুঃখটা দ্বিগুণ হয়। সেই কান্না বোনের মেয়ের সামনে কেঁদে মন হালকা করে। সুজন জানে, মিনিট পাঁচেক না গেলে মা শান্ত হবে না। হাত-মুখ না ধুয়েই কতকটা নাড়ু খেয়ে ফেলেছে সে। তারপর ভাবে, চুমকী হয়তো বেরুতে চাইবে। গোসলখানায় ঢোকে তাড়াতাড়ি।

গোসলখানায় ঢুকে প্রথমেই সেভ করে। মাউথ ওয়াশ দিয়ে মুখ পরিস্কার করতে করতে আওড়ায়- উপর ঠোঁটে চুমা খেয়েছি আমি। আমাকে রানে নিচে ফেলে চাইপা জান কবচ করবে। আমি নিচের ঠোঁটে চুমা খেতে চেয়েছি। আজ তোর নিস্তার নেই চুমকী, আজ তোর নিস্তার নেই। আজ তোর দুই ঠোঁট একসাথে চাবায়া খাবো। আচ্ছা মতো সাবান ঘসে সমস্ত শরীরে। গোসল সেরে বাইরে এসে কারো কোনো সাড়া পায় না সুজন। ভাবে, বোনঝির সাথে গল্পে মজে গেছে মা।

ফ্যানটা দ্রুতবেগে ছেড়ে দেয়। ফেস কাপড় চোপড় পরে। শরীরে শুধু নয়, সারা ঘর সেন্ট মেরে সুগন্ধিতে ভরে দেয়। সিডি প্লেয়ারে একটা রোমান্টিক গান প্লে করে। মাত্র দুইটা মিনিট সময় পেলেই আজ কাজটা সেরে ফেলবে। সিডির গানের সাথে নিজেও গুনগুন করে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়ায়, নিজের ঠোঁটের দিকে তাকায়। তাকে খুব ক্ষুধার্ত দেখা যাচ্ছিলো।

নিঃশব্দে রুমে ঢুকেছে চুমকী। রুমের আবহাওয়া বুঝতে পেরেছে সে। দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়। সুজন আয়না থেকে মুখ ঘুরিয়েই দেখতে পায় চুমকীকে। মুচকী মুচকী হাসছে সে। কিন্তু ঘরের ভেতরে ঢুকছে না। কি ভাবছে সে ? চোখে আবেগ নিয়ে তাকায় সুজন। দু’জন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। দুটি তৃষ্ণার্ত প্রাণ, ঘরময় সুগন্ধিতে ভরা, সিডি প্লেয়ারে বেজে চলেছে রোমান্টিক গান। শুধুমাত্র দূরত্ব কমার অপেক্ষা। সুজনের পা সামনের দিকে চলতে থাকে। চুমকী দরজায় ঠেঁস দিয়ে দাঁড়িয়ে হাস্যরত। সুজন অগ্রসরমান। হঠাৎ চুমকী চেঁচিয়ে ওঠে-

-    ও খালা, দেখো তোমার ছেলে কি করতাছে ?

সুজন হকচকিয়ে ওঠে। কি করবে বুঝতে পারে না। এরই মধ্যে মা এসে পড়েছে। সুজনকে লক্ষ করে বলে-

-    কি করেছিস ? সুজন কিছু বলে না। চুমকীর দিকে তাকিয়ে বলে- 

-        কি করেছে ? 

-   আমি এসে দেখি আপনের ছাওয়াল বিড়ি খাচ্ছে। আমাকে দেখেই সেন্টের বোতল খালি করে ঘর থেকে গন্ধ তাড়াচ্ছে।

এ কথা শুনে সুজনের মা কাঁদতে কাঁদতে খেদোক্তি করতে আরম্ভ করে। বলে- সবই আমার কপাল। এই জন্যি আমি কই, ঘরের দরজা বন্ধ কইরা আমার ছাওয়াল কি করে। কতো কি ভাইবা রাখছি -- - - -

পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে সুজন। মায়ের কোনো কথা তার কানে যায় না। দরজায় দাঁড়ানো চুমকী মা-কে এড়িয়ে সুজনের দিকে একটি ফ্লাইং কিস্ ছুঁড়ে দেয়। বলে-

-    খালা, আমি যাচ্ছি। তোমাগে মায়-পুতের ভিতরে আমি ঢুকপার চাই না। 

-:-
২৫.০৪.২০২২

Sunday, April 24, 2022

আদিম যুগের গল্প

 - সাগর আল হেলাল

=============

ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো গালের উপর। আমিও হতবাক। অনেকক্ষণ ধরে ওদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া লক্ষ্য করছিলা। শীর্ণ দেহের মেয়েটা ভীষণ রকমের তেজি ও জেদি মনে হলো। চড় খেয়ে ছেলেটা যেনো বেকুব হয়ে গেছে। কোন আওয়াজ করছে না। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে।

চড়টা মারতে পেরে মেয়েটার জ্বালা যেনো একটু কমেছে। মুখে হাসি আনার চেষ্টা করছে। সে হাসিতে ছেলেটা গলতে চাচ্ছে না মনে হলো। সে নির্বাক চেয়েই আছে। মেয়েটা সরছে না ছেলেটার পাশ থেকে। আমি ভেবেছিলাম চড়টা মেরে ঝেড়ে দৌড় দেবে সে। কারণ ছেলেটার স্বাস্থ্য শক্তি যেমন, তাতে যদি সে একবার মেয়েটাকে ধরে বসে তাহলে আর ছুটতে পারবে না।

ভালোবাসাটাসা যাই থাক একটা মেয়ের হাতে চড় খাওয়ার পর তাকে আস্ত ছেড়ে দেবে এমন ছেলে সমাজে আজই প্রথম দেখলাম আমি। হাতের কাজ অসমাপ্ত রেখে পরিসমাপ্তি দেখার জন্য আড়চোখে সমস্ত বিষয়টা দেখছিলাম আমি।

হঠাৎ ছেলেটা মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে উদ্যত হলো। লক্ষ্য করলাম, মেয়েটা দ্রুত বেগে এসে ছেলেটার পায়ের উপর পাঁড়া দিয়ে আবার আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। ছেলেটা কি করবে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না যেনো। এদিক ওদিক তাকায়। কেউ দেখে ফেলছে নাতো ! হাত দিয়ে চড় খাওয়া জায়গাটা স্পর্শ করে। তা দেখে মেয়েটা অচেনা রকমের শব্দ করে ওঠে। এ রকম আওয়াজ আমিও শুনিনি কখনো।

আমার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গার উপক্রম। কোনো কাজেও মন বসছে না। আবার তাদের ঝগড়া পরিসমাপ্তিও না দেখে শান্তি লাগছে না। এক সময় দেখি দুজন প্যারালাল একই দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। মারামারি কি তাহলে থেমে গেলো ? কেউ কাউকে সরিও বললো না ! তাজ্জব !

মিনিট দুই এভাবেই সামনে পেছনে হাঁটলো দুজন। তারপর দুরত্ব যেনো একটু কমলো। দালানের বীমের ওপাশে যখন চলে গেলো ওরা, আমার মনে হলো বেশ ঘণিষ্ঠ হয়েছে। এপাশ থেকে দেখা শুধু যাচ্ছিলো দুটি লেজ পরস্পরে জড়িয়ে রয়েছে, যা ঐ ছেলে ও মেয়ে টিকটিকির ছিলো।

-

#নার্গিসেরমনভালোনেই

২৫.০৪.২০২২

Saturday, April 16, 2022

দুঃখের শেঁকড়ে বিষ্ময়কর সুখ

==================
পর্ব-১১
====================

রান্না ঘরের এমন এক জায়গায় দাড়িয়েছে চারুলতা, যেখান থেকে বাজার নিয়ে আসা সুবলকে খুব ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু সুবল তাকে দেখতে পাবে না। লতা মাসি বিষয়টা জেনে বুঝেও হাঙ্গামা করছে না। আরও কাজের লোক আছে, যারা বাইরে থেকে আসে। চুপচাপ হাতের কাজ করে যায়। এক ফাঁকে চারুলতার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বুঝাতে চায়, বাড়াবাড়ি যেনো না করে সে। চারুলতাও কম যায় না। মাসির দিকে তাকিয়ে জিহবা বের করে ভেঙচি কাটে। আর মিটমিট করে হাসে।

মাসি, কই তুমি? বাজার আইসা গেছে। সুবল দুই হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে রান্না ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ায়।

-  এই তো বাছা। দেও, ব্যাগ দুইডা আমার কাছে দেও। বলতে বলতে উঠে দাঁড়ায় লতামাসি। ইচ্ছে, চারুলতা যাতে সুবলের সাথে কথা বলতে না পারে।

-     তুমি পারবা না মাসি! ব্যাগ খুব ভারী। ব্যাগ দুইটা আসলেও বেশ ভারি ছিলো। সুবল একেবারে রান্না ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ায়।

সুবল চারুলতাকে দেখছে না। চারুলতার চোখ ফিরছে না সুবলের চেহারা থেকে। সুবল ক্যাবলার মতো কথা বললেও আসলে চারুলতা বিশ^াস করে না যে, সুবল কোনো ক্যাবলা ছেলে। প্রতিটি কাজ করে নিখুঁতভাবে। বাজারে গিয়ে কোনো দিন কোনো সওদার কথা সে ভুলে যায় না। পঁই পঁই করে হিসেব মিলিয়ে দেয়। চেহারায় মার্জিতের ভাব আছে। কিন্তু গোবেচারা সেজে থাকে। ব্যাগ থেকে বাজার ঢালতে ঢালতে বলে-

- আচ্ছা, বাছা! ইবার তুমি ইকটু জেরোৗ গা। আমি দেখে নিচ্ছি। কথা বলে সে ভিতরে থাকা চারুলতার দিকে আড়চোখে তাকায়। চারুলতা হাতে কিল দেখায়। লতা মাসি উপভোগ করে সকল বিষয়। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না।

-  তোমার পান সুপুড়ি ঐ দুই নম্বর ব্যাগে আছে। বলে সুবল।

-     আমিতো তোমায় পান আনতে বলি নি বাছা! পয়সাও দো দিই নি?

-     ও আমি ব্যবস্থা করে নিয়ে আইছি। যেই আমার আষ্ট আনার পান-সুপুড়ি!

-    ট্যাহা পয়সা চুরি কইরো না সুবল। আরতী দেবী এগুলা পছন্দ করে না। তুমি বরং আমার কাছ থেকে পয়সাডা নিয় নেও।

-    আরে না মাসি। তোমার পানের পয়সা আমার থেইকে দিয়েছি। আরতী দেবী আমাকে হাত খরচের জন্যি পাঁচটা টাকা আলাদা করে দিয়েছিলেন।

-     তুমি আবার আমার জন্যি পয়সা খরচ করতি গেলে ক্যা?

-  এইখানে তো আমার আর কেউ নাই। মনে হইছে, তাই আনছি। তুমি অন্য কিছু মনে কইরে না।

সুবল আর মাসির কথা বেড়ে যাওয়ায় চারুলতার সুবিধেই হলো। এতো কাছ থেকে এতোক্ষণ ধরে সুবলকে দেখার সুযোগ সে পায় নি। চারুকে দেখলেই সে যেনো নার্ভাস হয়ে যায়। যতো তাড়াতাড়ি পারা যায় সটকে পড়ে। কথা বলা তো দূরে থাক চোখের দিকে সরাসরি তাকায়ও না।

বসন্তেু কোকিল ডাকে। কোকিল বুঝে কি করে বসন্ত এসেছে? বাতাস তাকে বলে দেয়। বলে দেয় ভ্রমরের গুঞ্জন, ফুলের বাহার। রান্না ঘরের ভেতর চারুলতা আছে, কথা যেনো বাতাস বলে দিচ্ছিলো সুবলের কানে কানে। সুবল আজ যেনো চারুকে দেখতে চায়। ভেতরের মার্জিত সুবলকে দেখাতে চায় চারুলতাকে। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে বলে কিছু বলে না। হৃদয়ের কোণে দোলা লাগে। চারুলতার ¯িœগ্ন নারীসূলভ গন্ধ লাগে সুবলের নাকে। সুবল মোহিত হয় সেই সুগন্ধে। কিন্তু প্রকাশ করে না কিছুই। বাজার বুঝিয়ে দিয়ে, বাজারের ফর্দ হাতে নিয়ে লতা মাসি কে উদ্দেশ করে বলে-

-  যাই মাসী, হিসেবটা বুঝিয়ে দিয়ে আসি।

-     ঠিক আছে। নাস্তা তোমার ঘরে দিয়া আছে। হাত-মুখ ধয়ে খেইয়ে নেও গে। মাছটা মাটির গামলায় রাখতে রাখতে বলে লতামাসি।

সুবল চলে যেতেই সামনে বের হয়ে আসে চারুলতা। লতামাসিকে জড়িয়ে ধরে বলে- কেমুন ঘামতাছিলো! মনে অয় আমারে দেইখ্যা ফালাইছে। লতামাসি কিছু বলে না, মনে মনে হাসে। তার নিজের যৌবন বয়সের কথা মনে পড়ে যায়। চারুলতার আবেগ, শুধু চারুলতার নিজের আবেগ নয়। আবেগ ষোলো বছর ছোঁয়া সকল নারীর। নারীর এই আবেগ চিরন্তন। কেবল প্রকাশ ভঙ্গি আলাদা। লতামাসি চারুর হাতে পান-সুপাড়ি ধরিয়ে দিয়ে বলে- এটা ঘরে রাইখে আয়। আরতী দেবী মাছ দেহার জন্যি এহনই আইস্যে পড়বিনি।

-  দেও। পান খাইয়ে ঠোঁট লাল করি গে। লতামাসির হাত থেকে পান-সুপাড়ি নিয়ে যেতে যেতে বলে চারুলতা।

 

-

চলবে-


সাগর আল হেলাল

১৬.০৪.২০২২

আইকে সরকার

ইমরান খান তার দেশের সংসদ ভেঙে দিয়েছে।  যুক্তরাস্ট্রের হস্তক্ষেপে  নওয়াজ শরীফ ও আসিফ জারদারী গং এর পেছনে কাজ করছে। এ কথা  বলছে সে দেশের সামাজ...